অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা জরুরি 

· Prothom Alo

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতিসহ তিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার পরিচালনার শুরুতে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত ও জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করা জরুরি। নতুন সরকারের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছেন, সেটা ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি। তবে এ নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে শুরু থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নয়; মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জনপ্রশাসনের সব স্তরেই তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। 

Visit milkshakeslot.lat for more information.

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, বুধবার সকালে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু করেন। পরিদর্শন বইয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানসহ দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদের আকাঙ্ক্ষার একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সচিবালয়ে যান। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি একটি পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় নতুন সরকারের ওপর জনপ্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো, মূল্যস্ফীতি কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, দুর্দশাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার মতো গুরুদায়িত্ব বর্তেছে নতুন সরকারের ওপর। 

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানানো হয়, নতুন সরকার খুব শিগগির ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা দেবে। তবে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাটা সরকারের জন্য আশু চ্যালেঞ্জ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, এবার রোজায় পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। এরপরও দেখা যাচ্ছে রোজা শুরুর আগেই ফল, সবজি, মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম বাড়তি। সিন্ডিকেট করে পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শুরু থেকেই সরকারকে বাজার তদারকির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

কয়েক বছর ধরে দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে গোষ্ঠীতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থার সংকটে ভুগেছেন। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে কেবল একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে মতপার্থক্য ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা আশা করি, জাতীয় সংসদে তর্কবিতর্ক এবং আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Read full story at source