‘প্রচণ্ড তাপে মুরগি মারা যাচ্ছে, জেনারেটর চালিয়ে টিকতে পারতেছি না’
· Prothom Alo
‘সবচাইতে যে সমস্যাটা আমরা ফেস করতেছি, সেটা হচ্ছে বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। এই যে প্রচণ্ড তাপ, এই তাপে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মুরগিগুলো মারা যাচ্ছে। আবার জেনারেটর যে চালাব, সেই তেলের যে দাম, তেল কিনে জেনারেটর চালিয়ে আমরা এখন আর টিকে থাকতে পারতেছি না।’
Visit betsport.cv for more information.
কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোলাঘাট গ্রামের খামারি আবু তালেব। প্রায় ২৫ বছর ধরে পোলট্রিশিল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনি। নিজ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে তাঁর খামার বিস্তৃত। কয়েকটিতে মাংস এবং বেশির ভাগ শেডে ডিমের জন্য মুরগি পালন করেন তিনি।
দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে পোলট্রিশিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক খামারিরা লোডশেডিং ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় আবু তালেবকে। বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি নিয়ে গেলেন পাশের সোহাদিয়া গ্রামে তাঁর একটি পোলট্রি খামারে। গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ নেই। দুটি জেনারেটর অনবরত চলছে। তালেব জানালেন, গত বুধবার ঝড়ের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। এ ছাড়া নিয়মিত লোডশেডিং তো আছেই।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সোহাদিয়া গ্রামে আবু তালেবের মুরগির খামারতেল কিনতেও সমস্যার কথা জানিয়ে তালেব বলেন, ‘জেনারেটর চালাব, সে জন্য তো ডিজেল পাচ্ছি না। পাম্পে গেলে তো সিরিয়াল ধরে তেল পাই না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে প্রতি লিটারে ৩০-৫০ টাকা বেশি দিয়ে তেল কিনতে হয়।’
বিদ্যুৎ–সংকট ডিম উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা জানিয়ে আবু তালেব বলেন, ডিম দেওয়া মুরগিতে নির্দিষ্ট সময়ে আলো না দিলে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। কৃত্রিম উপায়ে বাতাস না দিলে মুরগি রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়, স্ট্রোক করে মারা যায়। সময়মতো পানি সরবরাহ না করতে পারলে মুরগি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। প্রচণ্ড উত্তাপে মুরগির টোটাল লেভেল (উৎপাদন ও শারীরিক সক্ষমতা) কমে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে মুরগির পাতলা পায়খানা হয়। অতিরিক্ত ভিটামিন প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এভাবে খরচ বাড়ে; কিন্তু উৎপাদন কমে।
আবু তালেব বলেন, আগে এক হাজার মুরগি জন্য বিদ্যুৎ খরচ হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা। সেখানে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় উঠে গেছে। উৎপাদন খরচ থেকে বর্তমানে প্রতিটি ডিমে প্রায় দুই টাকা লস গুনছেন।
পোলট্রিশিল্প তথা খামারিদের বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবু তালেব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে পোলট্রিশিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অথবা ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি দিতে হবে। তা না হলে সংকট বাড়তেই থাকবে। এতে বাজারের ডিম ও মাংসের সরবরাহ কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান এই উৎসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাবে।
এ প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, এ সেক্টরকে বাঁচাতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জরুরি। সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করা না গেলে অন্তত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল পাওয়া নিশ্চিত করতে পারলে পোলট্রি সেক্টর বাঁচবে।