হাতি ‘রাজু বাহাদুরের’ চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান মালিক

· Prothom Alo

গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্য হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হাতি ‘রাজু বাহাদুর’-এর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাতিটির মালিক মো. আতিকুর রহমান। হাতিটির চিকিৎসার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি সম্প্রতি প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।

Visit afsport.lat for more information.

আতিকুর রহমানের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্রাই গ্রামে। তিনি কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। বংশপরম্পরায় তাঁরা হাতি লালনপালন করেন। বর্তমানে রাজু বাহাদুরসহ তাঁদের পাঁচটি হাতি আছে।

আতিকুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে হাতিটির চিকিৎসা চলছে। থাইল্যান্ডের চিকিৎসকেরাও এসেছিলেন, কিন্তু এখনো সে দাঁড়াতে পারেনি; বরং যত দিন যাচ্ছে, সে দুর্বল হচ্ছে। অন্য হাতির আক্রমণের বিষয়টি সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের নজরে রাখা দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘হাতিটির মালিক আমি হলেও এটি দেশের সম্পদ। হাতিটিকে বাঁচানো জরুরি। এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চাইছি।’

মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, রাজু বাহাদুরের মা ৪৩ বছর বয়সী চন্দ্রতারা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়লে দেশটির বন বিভাগের লোকজন তাকে আটকে রাখেন। হাতি ফিরে পেতে ভারতে মামলা লড়ছেন আতিকুর। চন্দ্রতারার ফুলসুন্দরী, সুন্দরমালা ও রংমালা নামের দুটি মেয়ে হাতি আছে। হাতি লালনপালনে বন বিভাগের নিবন্ধন আছে আতিকুরের।

১ জুলাই প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে পাঠানো আবেদনে আতিকুর রহমান ‘রাজু বাহাদুর’ হাতির সুচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। আবেদনে হাতিটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেন। এটি লালনপালনে তাঁর আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে দাবি করে ক্ষতিপূরণ চান তিনি।

বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে ‘রাজু বাহাদুর’ নামের হাতিটিকে উদ্ধার করে। হাতিটি রাস্তায় ও বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত হতো। খবর পেয়ে বন বিভাগ হাতিটিকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কের হাতিশালায় নেয়। হাতিটির বয়স প্রায় ১২ বছর।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে হাতিশালায় হাতিটির ওপর সাফারি পার্কের অন্য একটি হাতি আক্রমণ করে। আক্রমণের ধাক্কায় সে মাটিতে পড়ে গিয়ে সামনের একটি পা ভেঙে যায়। অন্য পায়েও আঘাত লাগে। ঘটনার পর একটি ক্রেন এনে হাতিটিকে তুলে বালুর ঢিবির ওপর রাখা হয়। দেশের কয়েকজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। হাতিটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসকও আনা হয়।

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান মুঠোফোনে বলেন, পার্কে ১০টি হাতি আছে। এর মধ্যে চারটি পুরুষ হাতি সব সময়ই শিকলবন্দী থাকে। শিকলমুক্ত স্ত্রী হাতিরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। তারা প্রায়ই পুরুষ হাতিদের পাশে যায়। এ রকম কিছু ঘটবে তা আঁচ করার উপায় ছিল না। তবে দুর্ঘটনার পরপরই মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে। তিনি বলেন, হাতিটির অবস্থা অপরিবর্তিত। চিকিৎসার জন্য তাকে দুই বার ক্রেন দিয়ে টেনে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল; কিন্তু সম্ভব হয়নি। সুস্থ হাতিদের চেয়ে সে খাবার কম খাচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসা অব্যাহত আছে। থাইল্যান্ডের চিকিৎসকেরাও হাতিটির খোঁজখবর রাখছেন।

Read full story at source