বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ১৭ বছর ধরে চলছে কলেজ

· Prothom Alo

সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পাঠদান শুরু হয় ২০০৯ সালে। কলেজ শাখায় এখনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।

সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কলেজ শাখা চালু হয়েছিল ২১ বছর আগে। কলেজে পাঠদান শুরুর সময়ও ১৭ বছর পেরিয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত কলেজ শাখায় একজন শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কলেজের ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন। ফলে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

Visit moryak.biz for more information.

অবকাঠামোগত সমস্যা ও প্রয়োজনীয় আসবাবের সংকট না থাকলেও কলেজের নিজস্ব শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। কলেজ শাখার জন্য আলাদা কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কলেজের কাজ সামলাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট অনার্স-মাস্টার্সধারী শিক্ষকদের দিয়ে কলেজের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’

২১ বছরেও সৃষ্টি হয়নি পদ

১৯০৩ সালে নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে রূপান্তরিত হলেও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালে।

ছালেহ আহমদ, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকবিদ্যালয়ের নিয়মিত রুটিনের বাইরে কিছু শিক্ষককে কলেজ পর্যায়ে অতিরিক্ত একটি ক্লাস নিতে হয়। এতে কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় শাখায় বর্তমানে ১ হাজার ৮৬৭ জন ছাত্রী আছে। কলেজ পর্যায়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়ছে ২৯৬ ছাত্রী। এ ছাড়া দুই বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে আরও ৩০০ জন ছাত্রী ভর্তি হওয়ার কথা আছে। শিক্ষক কর্মরত আছেন ৪৮ জন। দুজন শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। তবে কলেজ শাখার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি বা নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদ বলেন, বিদ্যালয়ের নিয়মিত রুটিনের বাইরে কিছু শিক্ষককে কলেজ পর্যায়ে অতিরিক্ত একটি ক্লাস নিতে হয়। এতে কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। শিক্ষকেরা চাপের মধ্যে থাকলেও আন্তরিকতা ও উৎসাহের সঙ্গে কলেজে পাঠদান করছেন।

সরেজমিন চিত্র

গত ৩ আগস্ট বেলা ৩টা ১৮ মিনিটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ১০১ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক সালমা মনির। শ্রেণিকক্ষে তখন মাত্র সাতজন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। বিজ্ঞান বিভাগের ওই শ্রেণিতে মোট ছাত্রী ১৫০ জন। সালমা মনির বলেন, কয়েক দিন আগে মাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। তাই ছাত্রীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে টিফিনের পর তুলনামূলকভাবে ছাত্রীদের উপস্থিতি কম থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী সিলেট শহরের অন্যান্য সরকারি কলেজে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হয়। এখানে প্রতিদিন চারটি বিষয়ে ক্লাস হয়। বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায়ও সমস্যা হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে প্রদর্শক না থাকায় মাধ্যমিকের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরাই ব্যবহারিক ক্লাস নেন। তবে সেটিও নিয়মিত নয়।

ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন মুনশি জানান, সপ্তাহে দুই দিন তাঁকে পাঁচটি করে ক্লাস নিতে হয়। অন্যান্য দিন চারটি করে ক্লাস নিতে হয়। এর মধ্যে একটি কলেজ পর্যায়ের ক্লাস। টানা ক্লাস থাকায় বিরতি পাওয়ার সুযোগ হয় না। কলেজে ক্লাস নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে একাডেমিক প্রস্তুতিও নিতে হয়। মাধ্যমিকের পাশাপাশি কলেজের ক্লাসের জন্য বাসায় আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন।

মো. দিদার চৌধুরী, সিলেট অঞ্চলের পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী বলে, সিলেট শহরের অন্যান্য সরকারি কলেজে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হয়। এখানে প্রতিদিন চারটি বিষয়ে ক্লাস হয়। বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায়ও সমস্যা হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে প্রদর্শক না থাকায় মাধ্যমিকের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরাই ব্যবহারিক ক্লাস নেন। তবে সেটিও নিয়মিত নয়। এ ছাড়া বিজ্ঞানাগারটি মাধ্যমিকের উপযোগী হওয়ায় কলেজ পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য সেটি সেভাবে কাজে আসছে না।

কলেজ শাখায় শিক্ষক পদায়ন না হওয়ায় ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক মো. দিদার চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

Read full story at source