পাঁচ রাক্ষুসে মাছ, যারা অন্য মাছের ডিম খেয়ে ফেলে
· Prothom Alo

পুকুর বা জলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়ার পর অনেক সময় দেখা যায় মাছ ঠিকমতো বাড়ছে না। এর বড় কারণ হতে পারে পানিতে থাকা কিছু রাক্ষুসে মাছ। এরা ছোট পোনা মাছসহ মাছের ডিমও খেয়ে ফেলে। এতে অন্য মাছ আর বাড়ে না।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
অর্থাৎ যেসব মাছ অন্য ছোট মাছ, পোনা, ডিম খেয়ে ফেলে সেগুলোকে রাক্ষুসে মাছ বলা হয়। এসব মাছের মুখ বেশ বড় হয়। পুকুরে রুই, কাতলা বা মৃগেলের মতো চাষের মাছের সঙ্গে রাক্ষুসে মাছ থাকলে বড় ক্ষতি হয়। কারণ, এরা চাষের মাছকে ডিম ফোটানোর সুযোগ দেয় না এবং ডিম বা ছোট পোনা পেলেই খেয়ে ফেলে।
তাহলে চলো জেনে নেওয়া যাক পুকুর ও নদ-নদীতে পাওয়া যায় এমন ৫টি রাক্ষুসে মাছের কথা, যারা অন্য মাছের ডিম খেয়ে ফেলে।
মাছের নাম কেন ‘ভূত মাছ’১. আফ্রিকান মাগুর
দেশীয় বা সাধারণ মাগুর মাছ রাক্ষুসে মাছ নয়। তবে বাইরে থেকে আনা আফ্রিকান মাগুর বা থাই কিংবা হাইব্রিড মাগুর রাক্ষুসে ও মাংসাশী স্বভাবের। এরা খুব দ্রুত বড় হয়। এরা কোনো পুকুর বা জলাশয়ে থাকলে অন্য দেশীয় ছোট মাছ ও মাছের ডিম খেয়ে ফেলে। পরিবেশ ও দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় বাংলাদেশে আফ্রিকান মাগুর চাষ ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে জেলের জালে ধরা পড়েছে `সাকার মাউথ ক্যাটফিস` নামের মাছটি।২. সাকার মাছ
সাকার মাছ ৮০ দশকে ব্রাজিল থেকে বাহারি অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে এটি প্রথম বাংলাদেশে আনা হয়। কিন্তু বর্তমানে এই মাছ নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা আমাদের দেশি মাছের জন্য বড় হুমকি। এই মাছ যেকোনো পরিবেশেই বেঁচে থাকতে পারে। আর দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এটি দেশি ছোট মাছ, শামুক ও জলজ পোকার পাশাপাশি অন্য মাছের ডিম ও রেণু খেয়ে এদের বংশবিস্তারে বাধা দেয়। শুধু তা-ই নয়, সাকার মাছ জলাশয়ের পাড়ে বড় বড় গর্ত করে পাড়ের ক্ষতি করে। এদের পিঠে ও দুই পাশে ধারালো পাখনা থাকে। এ ছাড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এ মাছ জলাশয়ের প্রাকৃতিক খাদ্য নষ্ট করে এবং এর মাংসে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি পাওয়ায় এটি খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। এ জন্য সাকার মাছ নিষিদ্ধ করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
ছুরি মাছ এত লম্বা কেন৩. পিরানহা
বাংলাদেশে পিরানহা মাছ চাষ, কেনাবেচা ও পরিবহন করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এই মাছ ভীষণ রাক্ষুসে ও হিংস্র স্বভাবের হয়। এদের দাঁত অত্যন্ত ধারালো। পানির নিচে যেকোনো ছোট মাছ, মাছের ডিম ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এরা মুহূর্তের মধ্যে খেয়ে ফেলতে পারে। এদের কারণে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও দেশি মাছের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
৪. বোয়াল
বোয়াল আমাদের দেশের পরিচিত এক রাক্ষুসে মাছ। নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরে এদের প্রচুর দেখা যায়। এদের মুখ বেশ বড় ও পেটে ধারালো দাঁত থাকে, যার সাহায্যে সহজেই অন্য মাছ শিকার করতে পারে। বোয়াল মাছ মূলত মাংসাশী। পানির নিচে থাকা ছোট দেশি মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য প্রাণীর পাশাপাশি সুযোগ পেলেই এরা অন্য মাছের ডিম ও ছোট পোনা গিলে ফেলে। ফলে মাছ চাষের পুকুরে বোয়াল ঢুকে পড়লে চাষের পোনার সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। তাই পুকুরে একা বোয়াল চাষ না করে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাশের মতো অন্যান্য মাছের সঙ্গে মিশ্র চাষ করা পরামর্শ দেওয়া হয়।
৫. শোল মাছ
শোল আমাদের দেশের জলাশয়ের আরেকটি পরিচিত রাক্ষুসে মাছ। নদী, নালা, খাল, বিল ও নিচু পুকুরে শোল মাছ বেশি দেখা যায়। এদের শরীর লম্বাটে, মুখ চ্যাপটা এবং চোয়ালে ছোট ছোট কিন্তু ধারালো দাঁত থাকে। শোল মূলত শিকারি স্বভাবের মাছ। এরা পানির নিচে শেওলা বা জলজ উদ্ভিদের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এবং সামনে আসা ছোট মাছ, ব্যাঙাচি ও জলজ পোকা এক নিমেষে গিলে ফেলে। সুযোগ পেলেই এরা অন্য মাছের পেটে থাকা ডিম কিংবা জলাশয়ে ভেসে থাকা ডিম খেয়ে নেয়। ফলে যে পুকুরে শোল মাছের সংখ্যা বেশি থাকে, সেখানে কার্প–জাতীয় অন্যান্য মাছের পোনা ও ডিম দ্রুত কমে যায়।
সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিসমেনি মাছ কি সত্যিই কাদা খায়