শুধু হ্যালোউইন নয়, বিশ্বজুড়ে যুগ যুগ ধরে পালিত হচ্ছে এই ৭টি ভৌতিক উৎসব

· Prothom Alo

মৃত আত্মা, পূর্বপুরুষের স্মৃতি আর অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে ঘিরে হ্যালোউইন ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে নানা উৎসব ও ঐতিহ্য।

হ্যালোউইন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ভূতকেন্দ্রিক উৎসবগুলোর একটি। আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। করা হচ্ছে নানা আয়োজন। তবে মৃত আত্মা, পূর্বপুরুষের স্মৃতি আর অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে ঘিরে এই হ্যালোউইন ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে নানা উৎসব ও ঐতিহ্য। কোথাও ভূতের সাজে মেতে ওঠে মানুষ, কোথাও মৃত স্বজনদের জন্য সাজানো হয় বেদি, জ্বালানো হয় মোমবাতি কিংবা লণ্ঠন। আবার কোনো কোনো দেশের প্রথা অনুযায়ী, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজন করা হয় বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের। চলুন এক নজরে দেখে আসি বিশ্বের যত ভৌতিক উৎসব।

Visit grenadier.co.za for more information.

হ্যালোউইন উদযাপন হয় ভূতুড়ে সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়

১. হ্যালোউইন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় হ্যালোউইন। প্রাচীন কেল্টিক উৎসব ‘সামহাইন’ থেকে এর উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। প্রাচীন কেল্টিকদের বিশ্বাস ছিল, এ রাতে জীবিত ও মৃতদের জগতের মধ্যকার সীমারেখা ক্ষীণ হয়ে আসে। বর্তমানে হ্যালোউইন উদযাপন হয় ভূতুড়ে সাজসজ্জা, বিচিত্র পোশাক, মুখোশ, কস্টিউম পার্টি এবং শিশুদের ‘ট্রিক অর ট্রিট’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

২. অল সেইন্টস ডে ও অল সোলস ডে,

ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ১ নভেম্বর পালিত হয় অল সেইন্টস ডে এবং ২ নভেম্বর অল সোলস ডে।

কবরের কাছে মোমবাতি জ্বালানো হয় এই দিনে

এ সময় অনেক পরিবার প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করে, তাঁদের কবরের কাছে যায়, মোমবাতি জ্বালায় এবং তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করে।

৩. হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যাল

চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে চন্দ্রপঞ্জিকার সপ্তম মাসে, সাধারণত আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে, পালিত হয় হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যাল।

কাগজের তৈরি প্রতীকী টাকা ও বিভিন্ন সামগ্রী পোড়ানো হয় এই উৎসবে

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময় মৃতদের আত্মা ও অতৃপ্ত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। তাঁদের শান্ত করতে খাবার, ধূপ ও অন্যান্য সামগ্রী উৎসর্গ করা হয়। কোথাও কোথাও কাগজের তৈরি প্রতীকী টাকা ও বিভিন্ন সামগ্রীও পোড়ানো হয়।

৪. ওবোন

জাপানের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওবোন পালিত হয় জুলাই বা আগস্ট মাসে। এ সময় পূর্বপুরুষদের আত্মা পরিবারের কাছে ফিরে আসে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।

নদী বা সমুদ্রের পানিতে ভাসানো হয় লণ্ঠন

তাঁদের স্বাগত জানাতে বাড়িতে নানা আয়োজন করা হয়। আবার বিদায় জানানোর প্রতীক হিসেবে নদী বা সমুদ্রের পানিতে ভাসানো হয় লণ্ঠন। এ আয়োজন ‘তোরো নাগাসি’ নামে পরিচিত।

৫. ভূত চতুর্দশী

ভারত ও বাংলাদেশে দীপাবলি বা কালীপূজার আগের দিন অনেক বাঙালি সনাতন ধর্মের পরিবারে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী।

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে চৌদ্দ পুরুষের আত্মা মর্ত্যে ফিরে আসেন

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে চৌদ্দ পুরুষের আত্মা মর্ত্যে ফিরে আসেন। তাঁদের পথ দেখানোর প্রতীক হিসেবে জ্বালানো হয় ১৪টি প্রদীপ। এ উপলক্ষে ১৪ ধরনের শাক খাওয়ার রীতিও রয়েছে।

৬. দিয়া দে লস মুয়ের্তোস

মেক্সিকোর জনপ্রিয় উৎসব দিয়া দে লস মুয়ের্তোসের অর্থ ‘মৃতদের দিবস’। প্রতিবছর ১ ও ২ নভেম্বর উৎসবটি উদ্যাপিত হয়। এটি কেবল শোকের আয়োজন নয়, বরং প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি উদযাপনের উপলক্ষ।

বিশ্বাস করা হয়, এ সময় মৃত স্বজনদের আত্মা পরিবারের কাছে ফিরে আসে।

পরিবারের সদস্যরা মৃত প্রিয়জনদের ছবি, পছন্দের খাবার, গাঁদা ফুল, রঙিন সাজসজ্জা এবং মাথার খুলির আদলে তৈরি মিষ্টি দিয়ে বিশেষ বেদি সাজান। এই বেদি ‘ওফ্রেন্দা’ নামে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, এ সময় মৃত স্বজনদের আত্মা পরিবারের কাছে ফিরে আসে।

৭. ফেত গেদে

হাইতির ভুডু ঐতিহ্যে নভেম্বরের শুরুতে পালিত হয় ফেত গেদে। মৃতদের স্মরণে আয়োজিত এই উৎসবে মানুষ শোভাযাত্রা, নাচ ও গানে অংশ নেন।

মুখে সাদা পাউডার মাখেন এবং কালো বা বেগুনি পোশাক পরেন অনেকে এদিন

অনেকে মুখে সাদা পাউডার মাখেন এবং কালো বা বেগুনি পোশাক পরেন। ভুডু ধর্মীয় বিশ্বাসে মৃতদের সঙ্গে সম্পর্কিত দেবতা ব্যারন সেমেদির উদ্দেশেও নানা আচার পালন করা হয়।

আসলে বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষের মনেই মৃত্যুর পরের জগত ও মৃত মানুষের আত্মা, ভূতপ্রেত আর অতিপ্রাকৃত সবকিছু নিয়েই কৌতুহল ও বিভিন্ন সংস্কার থাকে। বছরের এই সময়ে হিম হিম আবহাওয়া আর দীর্ঘ রাতগুলো এসব ভাবনাকে আরও বেশি গভীর করে তোলে। তাই তো হ্যালোউইন ছাড়াও বিভিন্ন দেশে যুগ যুগ ধরে নানা ভৌতিক উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

সূত্র: বিবিসি, দ্য কালেক্টর

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

Read full story at source