বিশ্বকাপে তারকা হয়ে উঠতে পারেন যে ৫ তরুণ

· Prothom Alo

বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে তরুণ ফুটবলাররা মুহূর্তের মধ্যে বৈশ্বিক তারকায় পরিণত হন। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বছরের বিশ্বকাপে এমন পাঁচজন খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা পরবর্তী সময়ে বড় ফুটবল সুপারস্টার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। কারা সেই সম্ভাব্য পাঁচ তারকা—
আর্জেন্টাইন তরুণ নিকো পাজ

নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা)

২১ বছর

Visit palladian.co.za for more information.

নিকো পাজ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড় পাবোলো পাজের ছেলে। যদিও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্পেনে, তবু তিনি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাজ রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমির একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়। পরে ইতালির ক্লাব কোমোতে যোগ দিয়ে সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে খেলেন এবং সেখানে খুব দ্রুত উন্নতি করেন।

এতটাই যে ২১ বছর বয়সী এই তরুণের পারফরম্যান্স দেখে তাঁকে আবার দলে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে রিয়াল। দুর্দান্ত টেকনিক, দূর থেকে গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে ইউরোপের ক্লাবগুলোও তাঁর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। আর বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে মেসির বয়স ও ফিটনেস বিবেচনায় তাঁকে কম সময় মাঠে রাখার পথে হাঁটতে পারেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নায়ক হয়ে ওঠার সুযোগ আছে নিকো পাজের।

ফরাসি তরুণ দেজিরে দুয়ে

দেজিরে দুয়ে (ফ্রান্স)

২০ বছর
দেজিরে দুয়ে ফ্রান্সের ২০ বছরের তরুণ, যাঁর প্রতিভা নিয়েও প্রশ্ন নেই। এরই মধ্যে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য। গত বছর পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ইন্টার মিলানকে বড় ব্যবধানে হারানোর পথে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন। তবে বিশ্বকাপই হবে দুয়ের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে বড় আসরে খেলার প্রথম অভিজ্ঞতা। ফ্রান্সের একাদশে জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য সহজ হবে না। কারণ, আক্রমণভাগে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, পিএসজির ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসের মতো তারকারা।

এর মধ্যেও দুয়ে নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে কোচ দিদিয়ের দেশমকে মনে করিয়ে দিয়েছেন নিজের যোগ্যতার কথা। মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে করেছেন জোড়া গোলও।

ইংলিশ তরুণ নিকো ও’রাইলি

নিকো ও’রাইলি (ইংল্যান্ড)

২১ বছর

২১ বছর বয়সী ও’রাইলি এরই মধ্যে পেপ গার্দিওলার আস্থাভাজন হয়ে ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। মার্চে লিগ কাপ ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে সিটির জয়ে বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার (লেফটব্যাক) হিসেবে খেলেও দুই গোল করেছেন। তবে মজার বিষয় হলো, ও’রাইলি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন গোল স্কোরিং মিডফিল্ডার হিসেবে।

গার্দিওলা ও’রাইলির উচ্চতা, গতি ও কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠা এক ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত করেছেন। তা করেই হয়তো ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলেরও একটি বড় সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। কারণ, ইংল্যান্ড দল ইউরো ২০২৪–এর ফাইনালে উঠলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রকৃত লেফটব্যাকের অভাবে ভুগেছিল। লুক শর ফিটনেস সমস্যার কারণে সেই জায়গা বেশ দুর্বল ছিল। ও’রাইলি সেই অভাব দারুণভাবে মেটাতে সক্ষম।

ও’রাইলিকে নিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘কী দারুণ খেলোয়াড়! সে অসাধারণ উন্নতি করেছে। অনেক ম্যাচ খেলেছে, আর সে এটা প্রাপ্যও।’

ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার এনদ্রিক

এনদ্রিক (ব্রাজিল)

১৯ বছর

অল্প বয়সেই আলোচনায় এসেছেন এনদ্রিক। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পালমেইরাসের মূল দলে অভিষেক। এরপর ১৮ বছর হওয়ার আগেই তাঁকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না। কারণ, দলে আগে থেকেই ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বড় তারকা। ফলে এনদ্রিক কিছুটা আড়ালে পড়ে যান। পরে ফ্রান্সের ক্লাব লিওঁতে ধারে গিয়ে আবার নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। ফিরে এসেছে তাঁর গোল করার ধারাও।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নজর কাড়তে খুব একটা সময় নেননি। দুই বছর আগে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ডটি কেড়ে নিয়েছেন রোনালদোর কাছ থেকে। এনদ্রিকের ছোটখাটো কিন্তু শক্তিশালী শারীরিক গঠন দেখে অনেকেই তাঁকে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোমারিওর সঙ্গে তুলনা করেন। এখন তাঁর লক্ষ্য হতেই পারে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে রোমারিও যেভাবে ৫ গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন, তেমন কিছু করে দেখানো।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পেদ্রি

পেদ্রি (স্পেন)

২৩ বছর

পেদ্রি অনেকের চোখেই জাভি হার্নান্দেজের যোগ্য উত্তরসূরি। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন এই তরুণ। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, ছোট ছোট নিখুঁত পাস এবং বল ধরে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতার কারণে হয়ে উঠেছেন স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা।

পেদ্রি প্রথম লাইমলাইটে আসেন উয়েফা ইউরো ২০২০–এ, যখন বয়স ছিল মাত্র ১৮। দুই বছর আগে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তবে চোটের কারণে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলতে পারেননি।

ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে পেদ্রি আগে বেশ চোটের সমস্যায় ভুগতেন। তবে কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। গত দুই মৌসুমে টানা লা লিগা শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

Read full story at source